ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার ৯৮ নং ধানমত্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষক সংকট। অনুমোদিত ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন শিক্ষক। এই দুই শিক্ষক দিয়েই ১০৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি নেই কোনো দপ্তরিও। ফলে পাঠদান, দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক—সব ধরনের দায়িত্বই পালন করতে হচ্ছে ওই দুই শিক্ষককে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চারটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাস পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত শিক্ষকদের। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতি না রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন,
“আমাদের বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছি মাত্র দুজন। ১০৫ জন শিক্ষার্থীর সব ক্লাস আমরা দুজন মিলে পরিচালনা করছি। দপ্তরি না থাকায় দাপ্তরিক কাজও আমাদেরই করতে হয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি না থাকে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। আমরা দ্রুত শিক্ষক ও দপ্তরি নিয়োগের দাবি জানাই।”
শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বিদ্যালয় ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। ফ্যান চালু থাকলে ছাদের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থীদের গায়ের ওপর পড়ে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ে কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। রাতের বেলায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস টিউবওয়েলটিও চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ফলে শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার বলে,
“আমাদের স্কুলে মাত্র দুইজন টিচার আছেন। সব বিষয় পড়তে অনেক কষ্ট হয়। শিক্ষকদেরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে পানি পড়ে। স্কুলে একজন দপ্তরিও খুব প্রয়োজন।”
আরেক শিক্ষার্থী আশিকুল জানায়,
“আমাদের স্কুলে শিক্ষকের অনেক অভাব। আমরা চাই দ্রুত শিক্ষক দেওয়া হোক এবং ভাঙা ছাদ মেরামত করা হোক।”
চরম সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, নতুন ভবন নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল স্থাপন এবং নতুন টিউবওয়েল বসানো না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।