
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক দাদন মীরের সমর্থনে এক বিশাল উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের দক্ষিণ আটটা ভাড়ষা এলাকায় রাহেন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত এ বৈঠকে প্রায় পাঁচ শতাধিক সাধারণ মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাহেন মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং মো. নূর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই উঠান বৈঠকে বক্তারা দাদন মীরের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, মানবিক সহায়তা এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে তাঁকে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চাওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাজী তৈয়ব আলী, জব্বার হাজী, সালাম শেখ, হেলান মাতুব্বর, হাবি মাতুব্বর, হাবি বেপারী, দেলোয়ার শেখ, আপান মোল্লা, দুলাল বেপারী, কুদ্দুস খলিফা, শহীদ শেখ, শহর আলী ও রব শরীফসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এসময় দাদন মীরের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আজু কাজী, খবির বেপারী, আজিজুল শেখ, জুয়েল মাতুব্বর, জহু শিকদার, হায়দার বদ্য ও শিক্ষাবিদ মোজাফফর মাস্টার। বক্তারা বলেন,
“কালামৃধা ইউনিয়নের মানুষ এবার একজন সৎ, যোগ্য ও মানবিক চেয়ারম্যান চায়। দাদন মীর দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।”
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোজাফফর মাস্টার তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“নির্বাচনের এখনও কিছু সময় বাকি আছে। আমরা সবাই প্রার্থীদের মূল্যায়ন করব। তবে দাদন মীর একজন দানশীল, সৎ ও জনবান্ধব মানুষ হিসেবে ইতোমধ্যে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। জনগণ যদি তাঁকে যোগ্য মনে করে, তাহলে অবশ্যই তাঁকে নির্বাচিত করবে।”
স্লোগানে মুখরিত পুরো এলাকা
উঠান বৈঠক চলাকালীন সময়জুড়ে দাদন মীরের সমর্থনে উপস্থিত জনতা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠেন। চারপাশে বারবার ধ্বনিত হতে থাকে—
“কালামৃধার মাটি ও মানুষের একটাই দাবি,
দাদন মীর ভাইকে এবার চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই!”
মানবিকতার প্রতীক দাদন মীর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাওথার নয়াকান্দী গ্রামের সন্তান দাদন মীর দীর্ঘ ছয় বছর ধরে প্রবাসে থেকেও নিজ উদ্যোগে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। মসজিদ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসচ্ছল পরিবারের জন্য নিয়মিত সহায়তা দিয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তাঁর উদ্যোগে কয়েকশত অসহায় পরিবারের মাঝে চাল, চিনি, সেমাই, তেল ও গরুর মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে দেলোয়ার মাতুব্বরের পরিচালনা ও নুর আলম মীরের সার্বিক সহযোগিতা ছিল বলে জানা যায়।
এছাড়াও প্রায় এক সপ্তাহ আগে কালামৃধা বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে গিয়ে দাদন মীরের মানবিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থানীয়দের নজরে আসে। বাজারে পরিচিত কয়েকজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা হলে তিনি নিজের জন্য মাছ কেনার পাশাপাশি প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন মানুষের হাতে ইলিশ মাছ তুলে দেন। হঠাৎ এমন উপহার পেয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বিষয়টিকে তাঁর উদারতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি স্থানীয়দের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও নজরে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
যা বললেন দাদন মীর
উঠান বৈঠকে দাদন মীর বলেন,
“আমি বিগত কয়েক বছর ধরে গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে সহযোগিতা করছি শুধুমাত্র মানুষের ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়। কখনও নির্বাচনের উদ্দেশ্যে এসব করিনি।”
তিনি আরও বলেন,
“তবে কালামৃধা ইউনিয়নের মানুষ যদি আমাকে যোগ্য মনে করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই। প্রবাসে থাকার কারণে উন্নয়নমূলক কাজ কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, সে বিষয়ে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচিত হলে এলাকার অসমাপ্ত রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
উঠান বৈঠক শেষে উপস্থিত অতিথি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের জন্য খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। শত শত মানুষ একসঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অংশ নেন এ আয়োজনে। স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক আয়োজনের পাশাপাশি এমন আন্তরিক ও পারিবারিক পরিবেশ অনেক দিন পর দেখা গেছে, যা উপস্থিত মানুষের মাঝে ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখর আবহ সৃষ্টি করে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রচারবিমুখ ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে দাদন মীর ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর সততা, মানবিকতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।