
তথ্য গোপন, জালিয়াতি ও বিকৃতি করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চাকরির শুরুতেই যারা এ ধরনের কাজ করে, তারা অপরাধপ্রবণতা থেকেই এমন কাজ করে বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।
মোঃ ইউসুফ আলী মৃধা বয়স ৫ বছর কমিয়ে যোগদান করেন সরকারি চাকুরিতে। সরকারি চাকুরীবিধিকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ ইকামাতেদ্বীন নামক একটি ফাজিল মাদ্রাসায় সুপার পদে বহাল তবিয়তে চাকুরী করছেন। বয়স জালিয়াতি করে সরকারি চাকুরীর খবর প্রকাশ পাওয়ায় শিক্ষক, কর্মচারিসহ জনমনে ব্যপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড ছিলাধরচর সদরদীর মৃত সোহরাব হোসেন মৃধার পুত্র। চাকুরী হওয়ার পর পর থেকে তিনি শুরু করেন জাল জালিয়াতের মাধ্যমে নিয়োগ বানিজ্য। অনেকে এটাও বলছেন তার সার্টিফিকেট নকল কি না তাও যাচাই করে দেখা হোক। তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ও জেলা প্রশাসক, দূর্ণিতি দমন কমিশন, ইউএনও ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে অভিযোগের মাধ্যমে জানা গেছে।
জাতীয় পরিচয়পত্রে (নম্বর ২৯২১০০৬৬………১৮৯) তার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬৮। কিন্তু গত ১ এপ্রিল ২০২৬ এ প্রকাশিত এমপিও তালিকা অনুযায়ী তার জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৩। এখন প্রশ্ন জন্ম তারিখ গোপন করে কেন তিনি চাকরিতে যোগদান করলেন? তবে কি তিনি যখন চাকরিতে যোগদান করেন তখন তার সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা অতিক্রম হয়ে গিয়েছিলো? না কি ভুয়া কোন সনদ ব্যবহার করে তিনি চাকরিতে যোগদান করেন? দাবী উঠেছে সকল বিষয়ে তদন্ত করে দেখার।
তার পৈত্রিক বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় হওয়ায় সে আওয়ামী শাসনামলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে গড়ে তোলেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ বানিজ্য, বদলী, এমপিও ভুক্তি, অনুমোদন, বাতিল, স্থগিতাদেশ, স্থগিত বাতিলসহ নানা ধরনের কর্মকান্ড করে গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগ বানিজ্যে তিনি জাল সনদ, এন আই ডি কার্ডে বয়স বাড়িয়ে, কমিয়ে তদবির করে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন অসংখ্য শিক্ষকের। ২০০৮ সালে তার প্রতিষ্ঠানের মৃত শিক্ষদের নামেও বেতন উত্তোলন করেন। এ বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাগণ, কমিটির সদস্যগণ প্রশাসনে অভিযোগ দিলে তিনি গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। তিনি ২০২৪ সালে ভাঙ্গা জিআর নম্বর ৪০০/২০২৪, মামলা নং-১৩, তারিখ ১১/১১/২০২৪, ধারায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। এতেও তিনি থেমে থাকেননি, তার অপকর্ম চলমান রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক থাকলেও বর্তমানে তিনি খোলস বদলানোর পায়তারা করছেন। তার অপকর্মের তদন্ত শুরু হলে, তদন্তে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। তিন বছর পুর্বে ইউসুফ মৃধাসহ আরও ত্রিশ জন শিক্ষকের বেতন ভাতাদি স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়। পরবর্তীতে তিনি বেতন ভাতাদি ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। কিন্তু হাই কোর্ট সমস্ত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে তাদের রিটটি খারিজ করে দেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ইউসুফ মৃধার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এ প্রতিবেদককে গালিগালাজ করে লাইনটি কেটে দেন।