
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া বাজারে এক নারী ক্রেতার শ্লীলতাহানি ও অভদ্র আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত দোকানদার শাহামিয়াকে বাজার থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টায় দেওড়া বাজারের পশ্চিম গলিতে আয়োজিত এক বিশাল সালিশি বৈঠকে বাজার কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
অভিযুক্ত শাহামিয়া দেওড়া বাজারের নিয়মিত ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে নারী ক্রেতাদের সাথে অশালীন আচরণের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে একই কায়দায় নারী ক্রেতাদের হেনস্তা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনবার সালিশ হয়েছে। প্রতিবার তাকে সতর্ক করা হলেও গতকাল রবিবার (১০ মে) তিনি পুনরায় এক তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। একই অপরাধের চতুর্থবার পুনরাবৃত্তিতে এলাকায় তীব্র জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আজ বিকেলে আয়োজিত চূড়ান্ত সালিশি বৈঠকে শাহামিয়ার অপরাধের ধরণ ও বারবার অপরাধ করার প্রবণতা বিবেচনা করে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বাজার ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
আগামী ১-২ দিনের মধ্যে তাকে দোকান থেকে সমস্ত মালামাল সরিয়ে নিতে হবে।
মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাজার কমিটির তত্ত্বাবধানে বর্তমানে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দোকানটি বর্তমানে বিশেষ পাহারার আওতায় রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সালিশে উপস্থিত ছিলেন দেওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম খলিফা, দেওড়া বাজার বণিক সমিতির সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর বেপারী, সালাম মাতুব্বর, নূর জামাল হাওলাদার, বাচ্চু হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, তৈয়ব মাতুব্বর, রুবেল মাতুব্বর, হাফিজুল বেপারী এবং সামসু বেপারীসহ স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী। এলাকা ও বাজারের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয়রা এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. সানোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সালিশি বর্গ তাদের বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেওড়া বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে কোনো লম্পট বা চরিত্রহীন মানুষের জায়গা হবে না। বিশেষ করে নারী ক্রেতাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বাজার কমিটি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। শাহামিয়ার বহিষ্কার অন্য ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা।”
সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।