
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া বাজারে এক নারী ক্রেতার শ্লীলতাহানির অভিযোগে আজীবন বহিষ্কৃত দোকানদার শাহামিয়া সালিশি বোর্ডের রায় তোয়াক্কা না করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। গত ১১ মে ২০২৬, সোমবার বিকেলে দেওড়া বাজারের পশ্চিম গলিতে আয়োজিত এক বিশাল সালিশি বৈঠকে তাকে বাজার থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এবং পরবর্তী ১-২ দিনের মধ্যে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও আজ ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার (১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও) তিনি সেই রায় বাস্তবায়ন করেননি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো দোকান বা বাজার ত্যাগ না করায় এবং সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নেপথ্যে ‘স্থানীয় চক্র’: রায় অমান্য করার সাহস কোথায়?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালিশি বোর্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও অভিযুক্ত শাহামিয়া দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেননি। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে বা তাদের পরোক্ষ মদদে তিনি সালিশের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। একটি সামাজিক অপরাধের রায়কে এভাবে অমান্য করার পেছনে এই চক্রটির ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বারবার অপরাধ ও গণক্ষোভ
উল্লেখ্য, শাহামিয়ার বিরুদ্ধে নারী ক্রেতাদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগে দোকানে আসা নারীদের হেনস্তা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনবার সালিশ-বিচার হয়েছে। প্রতিবারই তিনি মাফ চেয়ে পার পেলেও গত ১০ মে ২০২৬ (রবিবার) পুনরায় এক তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। চতুর্থবারের মতো একই অপরাধ করায় এলাকায় তীব্র জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে গত ১১ মে (সোমবার) জরুরি সালিশ ডাকা হয়েছিল।
বিদ্যালয় ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দেওড়া বাজারের পাশেই রয়েছে একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে। পাশাপাশি এলাকার অসংখ্য নারী ক্রেতা এই বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও উশৃঙ্খল হওয়ায় বাজারের পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, স্কুলের পাশে এমন একজন বিকৃত মানসিকতার লোকের দোকান থাকা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তারা অনতিবিলম্বে সালিশের রায় বাস্তবায়ন এবং এই বাজারকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন।
বাজার কমিটি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
১১ মে’র সালিশে উপস্থিত দেওড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বেপারী এবং সদস্য তৈয়ব আলী পূর্বেই জানিয়েছিলেন, বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নারীদের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। তৎকালীন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দোকানে তালা ঝুলিয়ে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করা হলেও, অভিযুক্তের বর্তমান অনড় অবস্থানে বাজার কমিটি পুনরায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।
১১ মে’র সেই ঐতিহাসিক সালিশে দেওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম খলিফা, সালাম মাতুব্বর, নূর জামাল হাওলাদার, বাচ্চু হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, তৈয়ব মাতুব্বর, রুবেল মাতুব্বর, হাফিজুল বেপারী এবং সামসু বেপারীসহ স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো প্রভাবশালী চক্রের অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবিলম্বে অভিযুক্ত শাহামিয়াকে বাজার থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করতে প্রয়োজনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।