
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের আজিমনগর মোড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘চেয়ারম্যানের হাট’। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই পশুর হাট এবারও চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মিলিত উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে আয়োজিত এই হাটে এবার রেকর্ডসংখ্যক গরু, ছাগল ও ভেড়ার আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশি, শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় এক হাজারের বেশি গরু হাটে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে পুরো হাট এলাকা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী হাসিল ব্যবস্থা। অন্য অনেক পশুর হাটের মতো এখানে হাসিল নিয়ে কোনো জোর-জবরদস্তি বা অতিরিক্ত চাপ ছিল না। ক্রেতা ও বিক্রেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যা দিয়েছেন, সেটিই হাসিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, “এখানে গরু কিনে স্বস্তি পেয়েছি। হাসিল নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। সবাই সুন্দর পরিবেশে কেনাবেচা করতে পেরেছে।”
হাটের ইজারাদার ও কালামৃধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর বলেন, ঈদের এই হাটে মানুষ যেন আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পশু কেনাবেচা করতে পারে, আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছি। কাউকে কষ্ট দিয়ে হাসিল আদায় করা হয়নি। সবাই খুশি হয়ে যা দিয়েছে, সেটাই গ্রহণ করা হয়েছে।”
হাটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাজাহান মোল্লা বলেন,
“২০০৩ সালে আমার উদ্যোগে এই হাটের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন এটি একটি ঐতিহ্যবাহী হাটে পরিণত হয়েছে। চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এবারও সফলভাবে হাট সম্পন্ন হয়েছে।”
ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ (মনসুর মুন্সী) বলেন, এই হাটে ব্যবসার চেয়ে জনকল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে হাট পরিচালনা সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয় সমাজসেবক পিরু মিয়া বলেন,
সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছে। চেয়ারম্যানদের একতাবদ্ধ উদ্যোগে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে গিয়ে চার চেয়ারম্যান—রেজাউল মাতুব্বর, মনসুর মুন্সী, শাহজাহান হাওলাদার ও শাজাহান মোল্লার সম্মিলিত উদ্যোগে পরিচালিত এই পশুর হাট এলাকায় একতা, সৌহার্দ্য ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থাপনার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দালাল চক্র ও বিশৃঙ্খলামুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় হাটটি সাধারণ মানুষের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।