1. live@dainikbhangarzamin.com : দৈনিক ভাঙ্গার জমিন : দৈনিক ভাঙ্গার জমিন
  2. info@www.dainikbhangarzamin.com : দৈনিক ভাঙ্গার জমিন :
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভাঙ্গায় রেকর্ড সংশোধনী মামলা করায় ক্ষোভ: ওৎ পেতে ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী মার্কিন প্রবাসীকে পিটিয়ে জখম করল ভাতিজা! চার চেয়ারম্যানের ঐক্যে আজিমনগরের ‘চেয়ারম্যানের হাটে’ রেকর্ড পশুর আমদানি, খুশি ক্রেতা-বিক্রেতা কালামৃধায় দাদন মীরের পক্ষে উঠান বৈঠকে গণজোয়ার, চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় জনগণ ৬ জনের কাজ করছেন ২ শিক্ষক, নেই দপ্তরিও: ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ধানমত্তা স্কুলের পাঠদান ভাঙ্গায় সালিশের রায় অমান্য: আজীবন বহিষ্কৃত শাহামিয়া এখনো দেওড়া বাজারে, ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী ভাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন ভাঙ্গায় নকল কসমেটিক কারখানায় মোবাইল কোর্টের অভিযান, ১ লাখ টাকা জরিমানা ভাঙ্গায় জাকের পার্টির সাংগঠনিক সভা: কোরবানির চেতনায় বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ বাইশ রশিমুখী হওয়ার আহ্বান ভাঙ্গায় কালামৃধা ইউনিয়ন বিএনপির বিশাল কর্মী সভা: ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ার আহ্বান নবাগত ইউএনও মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ভাঙ্গার সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ভাঙ্গায় রেকর্ড সংশোধনী মামলা করায় ক্ষোভ: ওৎ পেতে ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী মার্কিন প্রবাসীকে পিটিয়ে জখম করল ভাতিজা!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

​ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক প্রবীণ আমেরিকান প্রবাসী আপন ভাতিজার নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী মোঃ গফুর মিয়া (৬৩) একজন ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী। গত ২৪ মে (২০২৬) বিকেলে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পাতরাইল ও চড়ুলারপাড় সাকিনের মধ্যবর্তী স্থানে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের চতলারপাড় গ্রামের মৃত দলিলউদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে মোঃ গফুর মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ আমেরিকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাদের বাপ-দাদার আমলের পৈত্রিক সম্পত্তি (যা ৭ ভাই ও ৩ বোনের সমবণ্টন হওয়ার কথা) তার ছোট ভাই আলমগীর মাতুব্বর অত্যন্ত গোপনে নিজের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর যাবৎ বিষয়টি গোপন থাকলেও অল্প কিছুদিন আগে তা প্রকাশ পায়।

​পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে জমিটি উদ্ধার ও আইনগতভাবে সকলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতে একটি ‘রেকর্ড সংশোধনী মামলা (নং-২৯০২/২৬)’ দায়েরের প্রস্তুতি নেন গফুর মিয়া। উক্ত মামলায় বাদী পক্ষে থাকার জন্য তার আপন বড় ভাই (মৃত জলিল মাতুব্বর)-এর ছোট ছেলে রাসেল মাতুব্বরকে অনুরোধ করা হলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। মূলত পৈত্রিক সম্পত্তির আইনি সমাধান রাসেল চাচ্ছিল না। এরপর আইনগত কারণে মামলায় রাসেল মাতুব্বরকে বিবাদী (অভিযুক্ত) করা হলে সে চরম ক্ষিপ্ত হয় এবং চাচা গফুর মিয়ার বড় ধরনের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

​এজাহার ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে বিকেলের দিকে মোঃ গফুর মিয়া স্থানীয় কালামৃধা বাজার থেকে অটোযোগে শিমুল বাজারে আসেন। বিকেল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকায় শিমুল বাজার থেকে নিজ বসতবাড়ির উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে রওনা হয়ে তিনি ভাঙ্গা থানাধীন পাতরাইল ও চতলারপাড়ের মাঝামাঝি এলাকার মমরেজ ব্যাপারীর রাইস মিলের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে, পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা রাসেল মাতুব্বর পেছন থেকে আচমকা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী প্রথমে গফুর মিয়ার মাথার পেছনে সজোরে কিল-ঘুষি মেরে তাকে পাকা রাস্তায় ফেলে দেয়।

​দেড় বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়া গফুর মিয়া উপুড় হয়ে শক্ত রাস্তায় পড়ে গিয়ে বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত রাসেল মাতুব্বর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাশে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করতে উদ্যত হয়। বৃদ্ধ গফুর মিয়া নিজের ডান হাত দিয়ে সেই আঘাত প্রতিহত করতে গেলে তার ডান হাতের কব্জি, কনুই ও উপরের অংশ মারাত্মক জখম এবং রক্তাক্ত হয়। এরপর অভিযুক্ত পুনরায় ইট দিয়ে তার ডান পায়ের গিরায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর ছিলা ও নিলা ফুলা জখম করে।

​হামলার প্রত্যক্ষদর্শী শিমুল বাজারের এক চায়ের দোকানদার জানান,
আমি গফুর মিয়া ও রাসেল মাতুব্বরকে ঘটনার সময় হাতাহাতি করতে দেখেছি। একপর্যায়ে গফুর মাতুব্বর ধাক্কা খেয়ে রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং তার হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে ও ছিলে যায়।”

​আহতাবস্থায় গফুর মিয়ার ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্ত রাসেল মাতুব্বর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় সে বলে, “তোকে পরবর্তীতে সুযোগমতো পাইলে জীবনের তরে শেষ করিয়া ফেলিবো।”

​”আমি একজন হার্টের রোগী। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন, নয়তো ঘটনাস্থলেই বড় কিছু ঘটতে পারতো। আমি প্রবাসী হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকি। বাড়িতে আমার স্ত্রী এবং ৮ বছরের একটি দত্তক নেওয়া সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই। আমি চলে গেলে ওদের নিরাপত্তা কে দেবে? যেকোনো সময় ওদেরও মেরে ফেলতে পারে। আমি ওসি সাহেব, এসপি সাহেবসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং আমাদের জীবন নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।”

গফুর মিয়ার স্ত্রী নেত্রী মাহবুব বেগম জানান, আমার স্বামী একজন গুরুতর অসুস্থ মানুষ। এই নৃশংস হামলার মানসিক ও শারীরিক ধাক্কায় তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যার কারণে এবার আমরা কোরবানির ঈদও করতে পারিনি। এছাড়া আমি বিএনপির রাজনীতির (নারী নেত্রী) সাথে যুক্ত থাকায় তা নিয়েও বিবাদীদের প্রচণ্ড মনোমালিন্য রয়েছে। তারা আমাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।”

​এই বিষয়ে অভিযুক্ত ভাতিজা রাসেল মাতুব্বরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি এই মারামারি ও দায়েরকৃত অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোনো প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

​ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় গফুর মিয়াকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এই বিষয় ভাঙ্গা থানার এসআই আশরাফ বলেন,
​”লিখিত অভিযোগপত্রটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট